Top ad
আমি মোহাম্মদ জিহাদুর রহমান নয়ন, পেশা হিসেবে একজন ছাত্র । পাশাপাশি, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এ কাজ করি । প্রযুক্তি নিয়ে লিখতে ভালবাসি, তাই অবসর সময়ে প্রযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করি ।

ইমরান হোসাইন পটুয়াখালি জেলার কলাপাড়া থানায় বেড়ে উঠেছেন । তিনি পেশায় একজন ছাত্র । বর্তমানে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর কাজ করছেন ।

আমরা এখন ইমরান হোসাইন এর সফলতার গল্প জানবো । আশা করি, উনার সফলতার গল্প শুনে যারা ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার গড়তে চান তাঁরা অনুপ্রেরণা পাবেন ।

ইন্টারনেট এর সাথে আপনার পরিচয় কিভাবে হয়?

আমার SSC পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে আমি সর্বপ্রথম ঢাকা এসেছিলাম মামার বাসায় বেড়াতে। তখন আমার মামার বাসায় কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট কানেকশন ছিল। তখন মামা আমাকে একটি ফেসবুক একাউন্ট খুলে দিল এবং। আমি তখন ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করতে করতে ইন্টারনেটের সাথে পরিচিত হই।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর শুরুটা কিভাবে করেছিলেন?

২০১৪ সালের দিকে আমি বেশিরভাগ সময় ফেসবুক পেজ অ্যান্ড গ্রুপ নিয়ে ঘাটাঘাটি করে জানতে পারলাম যে ইন্টারনেট থেকে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব এবং অনেকেই এটাকে প্রফেশন হিসেবে নিয়েছেন তখন থেকে আমি এই ব্যাপারে আগ্রহি হয়ে উঠলাম এরপর একটা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলাম। ক্লাসের টাইমে গিয়ে দেখতাম প্রতিষ্ঠান বন্ধ আরো কিছু দিন ঐখানে কিছু ক্লাস করে হতাশ হয়ে পড়লাম । তারা আমাদের সুধু HTML, CSS, photoshop, SEO, WordPress, adsence এর ব্যাসিক নিয়ে লেকচার তো এবং বড় সপ্ন দেখাতো তখন আমরা ঐ প্রতিষ্ঠানে জিজ্ঞেস করলাম ভাই আমাদের কোর্স তো শেষ আমরা ইনকাম করবো কি ভাবে। তারা বলল ইনকাম করতে হলে আরো ৩টি কোর্স করতে হবে web design, development এর উপরে যার প্রতিটার মুল্য ১০ হাজার করে। তখনই বুঝলাম যে ঐ প্রতিষ্ঠান দিয়ে তেমন ভাল কিছু শেখা যাবে না। একদিন ফেসবুকে হঠাৎ করে সফটটেক-আইটি এর পোষ্টে দেখলাম যে সামনের শুক্রবার সকাল ১০.৩০ মি. এ ফ্রি কর্মশালা আছে । ওখানে যেতে হলে অ্যাপ্লাই করতে হবে । আমি অ্যাপ্লাই করি, শুক্রবার গেলাম সেখানে গিয়ে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারি softech-it এর সিইও সুজন ভাইয়ের মাধ্যমে । তিনি এত ভালোভাবে আমাদের বেপারটা বুঝিয়ে বললেন এই ভাবে আমাকে আগে আর কেউ বুঝিয়ে বলে নাই। তাই softech-it টা খুব ভালো লেগেছিল। কয়েকদিন পর আমি softech-it তে ভর্তি হয়ে যাই । এভাবেই আমার ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর শুরু টা হইয়েছিল। বর্তমানে আমি ২টা মার্কেটপ্লেস এ কাজ করি। আমি গত ২৫ দিনে আমার ইনকাম ৬০০ ইউএস ডলার। এখনো হাতে বেশ কিছু কাজ আছে।

Imran Hossain

প্রথম কাজ পাওয়া সম্পর্কে কিছু বলুন?

আমাদের কোর্স এর মাঝামাঝি পর্যায় সুজন ভাই আমাদের সবাইকে ফাইভারে একাউন্ট খুলতে বললেন সবাই একাউন্ট করল এবং কয়েক জন কাজও পেয়ে গেলো কিন্তু আমি শুধু ম্যাসেজ পাচ্ছিলাম কিন্তু কাজ পাচ্ছিলাম না। আমি ভালভাবে প্রাকটিস চালিয়ে গেলাম। এর কিছু দিন পর আমাদের একদিন odesk নিয়ে বিস্তারিত দেখালেন সুজন ভাই। এর ৩ দিন পর আমি ৫-৭ টা কাজের জন্য এপ্লাই করে oDesk এ প্রথম কাজ পেলাম। আমার প্রথম কাজটা ছিল $40 এর। অনেক ভয় পেয়ে ছিলাম আমি পারব কিনা তখন সুজন ভাইকে সব খুলে বললাম সে যেমন যেমন বলল তেমন ভাবে কাজটি করে জমা দিলাম এবং ৫ স্টার রেটিং অ্যান্ড ভাল রিভিউ পেলাম। সেই সময় সুজন ভাই অনেক রিসোর্স দিয়ে আমাকে হেল্প করেছিলেন এখনো যেকোনো ব্যাপার নিয়ে আমাদের গাইড লাইন দিয়ে যাচ্ছেন। সুজন ভাইয়ের ঋণ আমি আসলে কোনো দিন শোধ করতে পারব না।

শুরু করার সময় কোন বাঁধার সম্মুখীন হয়েছিলেন?

শুরু করার সময়ই আমি বাজে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে অনেকটা সময় এবং টাকা নষ্ট করে হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। এবং ফ্যামিলি থেকে বেশি সাপোর্ট পাইনাই কারন তারা কেউ বিশ্বাসই করতো না যে ফ্রীলান্সিং করে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব এবং প্রথম দিকে অনেকে বলতো তুমি ফ্রিল্যান্সিং প্রফেশনে সফল হতে পারবা না কারন আমার পরিচিত অনেকে সফল হতে পারে নাই। কিন্তু আমি ফ্রিল্যাসিং এর উপর অনেকের সফলতা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। প্রচণ্ড ইচ্ছা শক্তির বলে আমি সব বাধা অতিক্রম করে সুজন ভাইয়ের দেখানো পথে এগিয়ে আসতে পারছি, তাই আজ আমি সফল।

আপনার জীবনের খারাপ সময়ের কিছু কথা বলুন?

আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময় ছিল আমি যখন প্রথম ২-৩ টা কাজ পাওয়ার পর আমি আর কাজ পাচ্ছিলাম না। বাড়ি থেকে টাকা আনতে লজ্জা লাগতো । এভাবে ৪-৫ মাস খুব কম কাজ পাচ্ছিলাম মাসে ১টা আবার কোনো মাসে কোনো কাজ নাই। এর পর যখন মার্কেট প্লেসে ভাল কিছু ফিডব্যাক হয়ে গেল তারপর থেকে নিয়মিত কাজ পাচ্ছি এখন বর্তমানে ২টা পারমানেন্ট ক্লায়েন্ট আছে।

নিজেকে কেমন অবস্থানে দেখতে চান?

আমি আমাকে একজন বড় ফ্রীল্যন্সার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। নিজে এ ব্যাপার নিয়ে অনেক সচেতন তাই প্রতিদিন নতুন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করি।

অবসর সময় কিভাবে কাটান?

আমি সবসময় অবসর আবার সবসময় ব্যাস্ত কারন কোনো কাজ না থাকলেও কম্পিউটারের সামনে বসেই থাকি। যখন খুব একঘেয়ে হয়ে যায় তখন মাঝে মাঝে বন্ধুদের সাথে বাহিরে কোথাও বেড়াতে যাই । মাঝে মাঝে মুভি, নাটক, ফানি ভিডিও এবং ভিডিও গেমস খেলে অবসর সময় কাটাই।

নতুনদের জন্য আপনার পরামর্শ

নতুনদের জন্য আমার পরামর্শ হল কখনোই হাল ছাড়বেন না। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখবেন সবাই পারলে আমিও পারব। নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলার চেষ্টা করুন দেখবেন কাজের কোনো অভাব নাই। প্রতিদিন নতুন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন মনে রাখবেন শেখার কোনো শেষ নেই।

 

ধন্যবাদ ইমরান হোসাইন কে উনার সফলতার গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ।

One response to “ইমরান হোসাইন এর সফলতার গল্প”

  1. Sunnow says:

    Apnader sofolotar golpo amake mugdhoo kore ,, apnar kotha gulo amai onek onuprarona dilo …. dowa korun amraow jara er sathee ashi tara jeno apnar moto sofol hoite pari…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ব্লগ সম্পর্কে

সফটটেক ব্লগ একটি বাংলা কমিউনিটি ব্লগিং প্ল্যাটফরম যেখানে লেখক নিবন্ধন করে তাঁদের লেখা প্রকাশ করতে পারেন । এখানে শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক লেখা প্রকাশ করা হয় ।

যোগাযোগ

ঠিকানাঃ হাউজ#৪, লেভেল#৬, রোড#১/এ, সেক্টর#৯, আমিন টাওয়ার এপার্টমেন্ট, উত্তরা, ঢাকা - ১২৩০